Sunday, February 7, 2016

রাতের (তাহাজ্জুদ) নামায সম্পর্কে

১৩৪৬.  আলী ইবন হুসায়েন (রহঃ) ... যুরারাহ ইবন আওফ (রহঃ) হতে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ একদা আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মদ্যরাত্রির নামায পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তিনি (সাঃ) ইশার নামায জামাআতে আদায়ের পর গৃহে আসতেন। অতঃপর তিনি (সাঃ) চার রাকাআত নামায আদায় করে বিছানায় গমন করে ঘুমিয়ে পড়তেন। এ সময় উযুর পানির বদনা তাঁর (সাঃ) শিয়রে ঢাকা অবস্থায় থাকত এবং মিসওয়াকও তাঁর পাশে থাকত । অতঃপর তিনি (সাঃ) রাত্রির বিশেষ সময়ে আল্লাহ্‌র নির্দেশে জাগ্রত হয়ে মিসওয়াক করত ভালোভাবে উযু করতেন । পরে তিনি (সাঃ) জাযনামাযে গমন করে আট রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি (সাঃ) এই নামাযের রাকাআতসমুহে সূরা ফাতিহা এবং কুরআনের অন্য সূরা পাঠ করতেন, যা আল্লাহর ইচ্ছা হত এরূপ আরো আয়াত পাঠশকরতেন। তিনি (সাঃ) এই আট রাকাত নামায আদায়কালে মাঝখানে না বসে শেষ রাকাতের পরে বসতেন এবং সালাম ফিরাবার পূর্বে দণ্ডায়মান হয়ে নবম রাকাত আদায় করে বসতেন। অতঃপর আল্লাহ্‌র ইচ্ছানুযায়ী দু’আ করতেন এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করতেন এবং তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতেন । পরিশেষে তিনি (সাঃ) স্বশব্দে সালাম ফিরাসাবতেন যার ফলে গৃহের লোকেরা জাগ্রত হবার উপক্রম হত। অতঃপর তিনি (সাঃ) বসে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন এবং এখানে সূরা ফাতেহা পাঠের পর বসাবস্থায় রুকূ করতেন, অতঃপর দ্বিতীয় রাকাত রুকূ ও সিজদার সাথে বসে আদায় করতেন । পরে তিনি (সাঃ) আল্লাহ্‌র মর্জি অনুযায়ী দুআ করতঃ সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করতেন । তাঁর শরীর মোবারক ভারী ও দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি (সাঃ) নয় রাকাতের স্থলে দুই রাকাত বাদ দিয়ে ছয় এবং তার সাথে এক রাকাত যোগ করে সাত রাকাত আদায় করতেন এবং তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে পর্যন্ত এরূপে নামায আদায় করতেন। (আবু দাউদ)

No comments:

Post a Comment